:
Breaking News

কথা ও কাজের মধ্যে মিল কোথায় !

top-news

তন্ময় কবিরাজ

মোদি সরকারের দাবির সঙ্গে বাস্তব মেলে না।সরকারের শুধু প্রচার চলছে।ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের জন্য গত তিন মাসে বিজেপি খরচ করেছে প্রায় ৩৭কোটি টাকা। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে,দেশের বেশির ভাগ মানুষ হবে উচ্চ মধ্যবিত্ত,৫০কোটি টাকা দামের ফ্ল্যাট কেনার বহর বাড়ছে,অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের রিপোর্ট বলছে,ভারতের আয় বৈষম্যের হাল ব্রিটিশ আমলের থেকেও খারাপ।মোদীর মুখে গ্যারান্টি আছে, হেডলাইনের পরিবর্তে ডেডলাইন রয়েছে কিন্তু মানুষের জীবনের হাল ফেরেনি।চাষীদের আয় যে দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে তারও কোনো তথ্য নেই। বেকারত্ব চরমে।আইএলও রিপোর্ট দাবি করছে,ভারতে ৮৩ শতাংশ কর্মহীন,১২ শতাংশ শিক্ষিত যুবক বেকার।বৈষম্যের আড়ালে উন্নয়নের ফানুস উড়ছে।ধর্মের খেলা চলছে দক্ষিন ভারত থেকে সমগ্র উত্তর ভারত। রামমন্দির উদ্বোধনের দিনে ৫০টি দেশের প্রায় সাত হাজার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।অথচ মানুষ রাজনৈতিক তহবিল নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবে না।নির্বাচনী বন্ড বন্ধ হবার পরে মোদি কটাক্ষ করে কৃষ্ণ সুদমার প্রসঙ্গে এনেছিলেন।তিনি বলেছিলেন,নির্বাচনী বন্ড বন্ধ হবার কারনে আজ যারা আনন্দ করছে আগামীতে তারাই অনুতাপ করবে।মোদীর মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল যতোই বলুক তাঁর দল জাতপাতের রাজনীতি করে না,আইএইচএল রিপোর্ট বলছে, মোদীর সময়েই মুসলিম বিদ্বেষ বেড়েছে। জাতীয়তাবোধে ফাটল ধরছে, বিশেষ করে উত্তর পূর্ব ভারতে। সনিয়া গাঁধী বলেছিলেন, বিজেপির হাতেই মিজোরাম আজ বিপন্ন।মণিপুরের আগুন আজও নেভেনি।আর তিনি সন্দেশখালির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন।ক্যাগের রিপোর্টে দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে।ভারত আজ দুর্নীতিতে বিশ্বে ৯৩তম স্থানে। কাজিরাঙ্গাকে মোদি স্বর্গের সঙ্গে তুলনা করছেন অথচ পরিবেশ নিয়ে আপত্তি উড়িয়ে জঙ্গলে খনির বরাত দিচ্ছেন আদানিদের। শেখ হাসিনা যখন ধর্ম নিরপেক্ষ হবার কথা বলেন, তখন বিজেপি সরকার আবার রথযাত্রার ইঙ্গিত দেয়। গুজরাটে বিদেশি মুসলিম খুন হন। গত তিন বছরে গুজরাটে আত্মহত্যা করে ২৫০০০জন। দ্যা হাউসহোল্ড কনসামসন এক্সপেনদিচার সার্ভে জানাচ্ছে, মানুষের খাওয়া দাওয়ার খরচ কমছে।মোদি তাই আরোও সময় চাইছে এখন।নতুন চমক শুরু হয়েছে।প্রচারে মোদি বলছেন,গত দশ বছর ছিলো ট্রেলার,এবার উন্নয়ন হবে।মানুষ জানে, যা এতদিনে হয়নি , তা ভবিষ্যতেও হবে না। বিজ্ঞান কংগ্রেস ধুঁকছে,গবেষণাতে নামমাত্র বরাদ্দ। নিট জানাচ্ছে, ২০২২সাল থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ কমছে।অথচ নিজের লোকসভা কেন্দ্রে ১৪হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করেছেন।অপুষ্টিতে ভুগছে দেশ।প্রতিদিন সাত কোটি শিশু অভুক্ত থাকে। রাষ্ট্রপুঞ্জ বলছে,এতো বৈষম্যের পিছনে রয়েছে সরকারের সদিচ্ছার অভাব।তবু তিনি নীরব।কেউ কেউ বলছেন,এ যেন রোমান সম্রাট নিরো ক্ষমতায় বসে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Search

Category

Gallery

Tags

Social Media